জামদানি হল কার্পাশ তুলা দিয়ে প্রস্তুত একধরনের পরিধেয় বস্ত্র যার
বয়ন পদ্ধতি অনন্য। জামদানি বুননকালে তৃতীয় একটি সুতা দিয়ে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
মসলিন বয়নে যেমন ন্যূনপক্ষে ৩০০ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হয় জামদানি বয়নে
সাধারণত ২৬-৮০-৮৪ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে জামদানি নানা স্থানে
তৈরি করা হয় বটে কিন্তু ঢাকাকেই জামদানির আদি জন্মস্থান বলে গন্যকরা হয়। জামদানি
বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনট্যানজিবল
কালচারাল হেরিটেইজ) হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
প্রাচীনকালের মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙ্গালী নারীদের অতি পরিচিত। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি বলতে সাধারণতঃ শাড়িকেই বোঝান হয়। তবে জামদানি দিয়ে নকশী ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, রুমাল, পর্দা প্রভৃতিও তৈরি করা হত। ১৭০০ শতাব্দীতে জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানির প্রচলন ছিল। এছাড়া, মুঘল ও নেপালের আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্যও জামদানি কাপড় ব্যবহৃত হত।
১৭ নভেম্বর, ২০১৬ সালে দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক (জি আই)
(GI-Geographical Indication) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় জামদানি।
নকশা অনুযায়ী জামদানি নানা নাম হয়ে থাকে যেমন তেরছা, জলপাড়, পান্না
হাজার, করোলা, দুবলাজাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলা ফুল, আঙ্গুরলতা, ময়ূরপ্যাচপাড়,
বাঘনলি, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, বুটিদার, ঝালর, ময়ুরপাখা, পুইলতা, কল্কাপাড়,
কচুপাতা, প্রজাপতি, জুঁইবুটি, হংসবলাকা, শবনম, ঝুমকা, জবাফুল ইত্যাদি।
অপরুপ নকশায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে জামদানি শাড়িতে।
জামদানি শাড়িতে বুননের মাধ্যমেই নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
জামদানি শাড়ি অনেক প্রকার হয়। তবে প্রাথমিক ভাবে
জামদানি শাড়ির উপাদান অনুযায়ী এটি তিন প্রকার।
১) হাফ
সিল্ক জামদানি – যার আড়াআড়ি সুতাগুলো হয় তুলার আর লম্বালম্বি সুতাগুলো হয় রেশমের।
২) ফুল
কটন জামদানি – যা সম্পুর্ন তুলার সুতায় তৈরি।
৩) ফুল
সিল্ক জামদানি – যা সম্পুর্ন রেশমের সুতায়
তৈরি।

No comments:
Post a Comment